আজ বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১১:৪২ অপরাহ্ন

সহকারী সার্জন আর নার্স নয়, উপঃ সহঃ কমিউঃ মেডিকেল অফিসার নিয়োগ প্রয়োজন

 

মেডিনিউজ রিপোর্ট :
গ্রামে বার বার এমবিবিএস চিকিৎসক পদায়ন করা হলেও কিছু দিন পর তারা তদবির করে বদলি, প্রেষণ, লিয়েন, ওএসডি কিংবা শিক্ষাছুটি নিয়ে আবার শহরে চলে আসেন। শিক্ষাছুটি কিংবা প্রেষণের মাধ্যমে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে এসকল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক শহরেই পোস্টিং নেন, তারা আর গ্রামে কমিউনিটির কাছে ফিরে যান না। যে কারণে গ্রামের মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ প্রান্তিক সাধারণ জনগণের। এর কি সমাধান হতে পারে কিংবা কিভাবে গ্রামের মানুষের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশন বিডিএমএ’র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের মহাসচিব ও প্রভাবশালী নেতা ডা. সিরাজুল ইসলাম বাচ্চুর কাছে।

 

 

ডা. বাচ্চু বলেন, ‘রাষ্ট্রের সকল জনগণের মৌলিক চাহিদা চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। জনগণের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রজাতন্ত্রের সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। আর এই চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রজাতন্ত্রের সরকার বিভিন্ন ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য সবার আগে প্রয়োজন সেবা কেন্দ্র সমূহে মেডিকেল টীমওয়ার্ক ভিত্তিক কার্য সম্পাদন। আর এই মেডিকেল টীমওয়ার্কে কাজ করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, চিকিৎসক, ডিপ্লোমা চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রভৃতি সহ ডমিসিলিয়ারী সার্ভিসের পেশাজীবীগণ। উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় মেডিকেল টীমওয়ার্কের সকল জনবলের উপস্থিতি প্রয়োজন, কেবল একজন পেশাদার ব্যক্তির পক্ষে রোগীর সামগ্রিক স্বাস্থ্য সেবা দেয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র একটি কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠান, কাজও বহুমুখী। এখানে প্রয়োজন সকল ধরণের স্বাস্থ্যকর্মীর।’

 

 

ডা. বাচ্চু আরো বলেন, ‘আমরা দেখেছি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাইমারী লেভেলের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র সমূহে গত কয়েক বছরে সহকারী সার্জন পদে প্রায় ১০ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক ও সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে প্রায় ১৭ হাজার জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সেই মোতাবেক প্রাইমারী লেভেলের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের ‘সহকারী সার্জনের’ সহযোগী হিসেবে প্রতিটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সমপরিমাণ ডিপ্লোমা চিকিৎসক- উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিয়োগ পাওয়ার কথা। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, অসংখ্য শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও গত ৫ বছরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কোনো উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিয়োগ হয় নি! যেকারণে প্রাইমারী লেভেলের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র সমূহে ( যেমন; উপজেলা হেলথ্ কমপ্লেক্স, উপ- হাসপাতাল, ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র প্রভৃতি ) জনস্বাস্থ্য দুর্ভোগের বিষয় মাঝে মাঝেই বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ পাচ্ছে। জনসাধারণের অভিযোগ এসকল প্রাইমারী লেভেলের স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে গেলে তারা চিকিৎসক পান না, তারা চিকিৎসা বঞ্চিত হচ্ছেন।
কাজেই প্রাইমারী লেভেলের সকল স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের শূন্য পদ সমূহে অতিদ্রুত উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন। দফায় দফায় কেবল সহকারী সার্জন আর নার্স নয়, উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার নিয়োগ প্রদান করা খুবই জরুরী।
অন্যথায় যতই সহকারী সার্জন নিয়োগ দেয়া হোক না কেন, গ্রামে কমিউনিটির জনগণের চিকিৎসা ব্যবস্থায় সামগ্রিক সাফল্য আসবে না। এতে করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসায় জনস্বাস্থ্য দুর্ভোগ দিন দিন বাড়তেই থাকবে। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বিশেষ আবেদন জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন :  লক্ষ্মীপুরে বাড়ছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা

 

 

উল্লেখ্য ১৯৭১ সালের পরে এই যুদ্ধ পীড়িত ও যুদ্ধাহত নব স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়ে যে, অনেক গরীব, দুস্থ, অসহায় মানুষের সামান্য রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদানও সরকারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। সেটা মনে করতে হলে, আমাদের সেই পূর্বের কথা স্মরণ করতে হবে যখন সামান্য কলেরা রোগে গ্রামের পর গ্রাম জনশূন্য হয়ে যেত, অসংখ্য মানুষ মারা যেত। যা জনবান্ধব বঙ্গবন্ধু’র সরকারকে ভাবিয়ে তোলে। ঠিক তখনি স্বল্প সময়ে সবার জন্য মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবা প্রদান বাধ্যতামূলক করার জন্য বঙ্গবন্ধু’র সরকার স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ১৯৭৩-১৯৭৮ ইং মোতাবেক ব্রিটিশ- পাকিস্তান আমলের লাইসেন্সশিয়েট অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি এলএমএফ, মেম্বার অব মেডিকেল ফ্যাকাল্টি এমএমএফ ডিপ্লোমা সমমান চিকিৎসকদের কোর্স কারিকুলাম অনুসারে চিকিৎসা বিদ্যায় ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি ‘ডিএমএফ’ কোর্স আন্তর্জাতিক ভাবে অনুমোদন করিয়ে নিয়ে আসেন। ১৯৭৬ সালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত, রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ কর্তৃক অধিভূক্ত, বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল স্বীকৃত মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল ( ম্যাটস্ ) এর মাধ্যমে ‘ডিএমএফ’ ডিপ্লোমা চিকিৎসকতা পেশা কোর্স টি প্রথম যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এদেশে ৮ টি সরকারি ম্যাটস্ ও প্রায় ২০৯ টি বেসরকারি ম্যাটস্ ডিপ্লোমা চিকিৎসকের ‘ডিএমএফ’ কোর্স টি পরিচালনা করে আসছে। এখানে ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৯০,০০০ নব্বই হাজার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেব অনুযায়ী প্রায় ১২ বার হাজার ডিপ্লোমা চিকিৎসক ‘উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার’ পদে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র, উপ-হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল সহ বিভিন্ন চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।
২০ বিশ হাজার ডিএমএফ ডিপ্লোমা চিকিৎসক স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক, দেশি-বিদেশি বিভিন্ন এনজিও স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত রয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন :

আরও পড়ুন :

সংবাদটি শেয়ার করুন :