আজ সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯, ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন,

দন্ত স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখছে ১৫ হাজার ডিপ্লোমা ডেন্টাল টেকনোলজিষ্ট

সুজিত তালুকদার/ মাহবুব আলমঃ

দেশের গ্রামীণ জনপদের প্রত্যন্ত অঞ্চলের নিম্নবিত্ত অস্বচ্ছল ও হতদরিদ্র পরিবারের  মানুষ বেশিরভাগই কোন না কোন দন্ত রোগে ভোগে। সরকারের বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা প্রকল্প ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন পর্যন্ত পৌঁছালেও দন্ত স্বাস্থ্য সেবা নিতে হলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোকে এখনও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অথবা জেলা সদর হাসপাতালে আসতে হয়। কিন্তÍ হাসপাতাল গুলোতে সব ধরনের দন্ত চিকিৎসা সেবা না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে শহরের বিভিন্ন প্রাইভেট চেম্বার গুলিতে যেতে হয়। গ্রামে মানসম্মত দন্ত চিকিৎসালয় না থাকা এবং শহরে দন্ত চিকিৎসার খরচ অত্যন্ত ব্যয় বহুল হওয়ায় গ্রাম্য দন্ত রোগীগণ বছরের পর বছর তাদের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে বিভিন্ন দন্ত রোগে আক্রান্ত হয় এবং এক সময় কারও কারও ক্ষেত্রে তা প্রাণঘাতিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কিন্তু আশার কথা হলো এই, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন স্টেট মেডিকেল ফ্যাকাল্টি অব বাংলাদেশের অধীনে ০৪ (চার) বছরের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল)/ডিপ্লোমা ডেন্টাল টেকনোলজিষ্টগণ দেশের বিভিন্ন সরকারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ডেন্টাল বিভাগে কর্মরত থেকে এবং প্রাইভেট প্রাক্টিসের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে অল্প খরচে দন্ত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিয়ে দেশের স্বাস্থ্য খাতের উত্তোরত্তর উন্নতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। হাতের কাছে স্বল্প মূল্যে দন্ত চিকিৎসা সেবা পাওয়ায় গ্রাম্য দন্ত রোগীদের সময় এবং খরচ দুটোই বাজছে, এজন্য তারাও এখন অনেক খুশি। জটিল দন্ত রোগীদের ক্ষেত্রে সঠিক পরামর্শের মাধ্যমে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেন্টাল বিভাগ, ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল সহ শহরের ডেন্টাল সার্জনদের কাছে পাঠানোয় ডিপ্লোমা ডেন্টাল টেকনোলজিষ্টগণ গ্রাম্য জনগোষ্ঠীর কাছে একটা আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে।

বর্তমান সরকারের সাবেক এবং বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপক উন্নতি এবং এজন্য আন্তর্জাতিক মহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুরস্কৃত ও প্রশংসিত হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য সকল ডিপ্লোমাদের অবদানের কথা অকপটে স্বীকার করে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং ডিপ্লোমাদের  বিভিন্ন পেশাগত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

দেশের জনসংখ্যার তুলনায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রচুর অভাব থাকায় এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের অধিকাংশই শহরমুখী হওয়ায় গ্রাম্য চিকিৎসা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মাঝে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকার  ১৩,৫০০ (তের হাজার পাঁচশত) কমিউনিটি কিনিক স্থাপন করেছে যা বিশ্বে আজ রোল মডেল। কিন্ত দন্ত স্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে সারা দেশে ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন ভিক্তিক কোন সরকারী সেবা কেন্দ্র না থাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোড়গোড়ায় এ সেবা পৌঁছানোর এক মাত্র মাধ্যম হচ্ছে এই ডিপ্লোমা ডেন্টিস্ট। কমিউনিটি কিনিক গুলোতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল)/ডিপ্লোমা ডেন্টিস্টদের জন্য একটি করে পদ সৃষ্টি হলে দেশের দন্ত স্বাস্থ্য সেবায় যুগান্তকারী সাফল্য অর্জিত হবে। নিশ্চিত হবে প্রত্যন্ত গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দন্ত স্বাস্থ্য সেবা এবং যা বিশ্বে আরও একটি রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পাবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রীর এব্যাপারে সুদৃষ্টি কামনা করছি।

আরও পড়ুন :  বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল বিল সংসদে উত্থাপন

দেশের ১৭ কোটি জনসংখ্যার শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত দন্ত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হলে দ্রুত ডিপ্লোমা ডেন্টাল টেকনোলজিষ্টদের বিদ্যমান পেশাগত বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সরকারের সুদৃষ্টি প্রয়োজন। গ্রামীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কাঠামোকে ধরে রাখা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল)/ডিপ্লোমা ডেন্টাল টেকনোলজিষ্টদের দীর্ঘ ০৮ (আট) বছর সরকারী চাকুরিতে কোন নিয়োগ নেই। সারা দেশে মাত্র ১৯ টি পদ ফাঁকা থাকায় ইতিমধ্যে বেকার ডিপ্লোমা ডেন্টালদের সংখ্যা প্রায় ১৫,০০০ (পনের হাজার) ছাড়িয়েছে। সরকারী বেসরকারি মিলিয়ে ১১৩ টি ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজী হতে প্রতি বছর প্রায় ২০০০ জন ডিপ্লোমা ইন ডেন্টিস্ট্রি পাশ করে বের হওয়ায় এই সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে প্রায় ৬০০০ ডিপ্লোমা ডেন্টালদের সরকারি চাকুরির বয়স শেষ হয়ে গেছে। তবে আশার কথা হলো এই, যুদ্ধ পরবর্তী সময় থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সবচাইতে অবহেলিত ডিপ্লোমা ডেন্টাল টেকনোলজিষ্টদের প্রাইভেট প্রাক্টিসের অনুমতি প্রদান করে মাহামান্য উচ্চ আদালত এক যুগান্তকারী রায় প্রদান করেছেন। আমরা আশা করছি মহামান্য উচ্চ আদালতের রায়কে সম্মান দেখিয়ে বিএমডিসি দ্রুতই তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মেডিকেল ডিপ্লোমাদের মত দেশ ও জাতির উন্নয়নে এবং দেশের গ্রামীন জনগোষ্ঠীর দোড়গোড়ায় পুরোপুরিভাবে দন্ত স্বাস্থ্য সেবা  পৌঁছে দেয়ার সুযোগ করে দিবেন। সরকারি উদ্যেগে পৃথক ডিপ্লোমা মেডিকেল শিক্ষা বোর্ড গঠনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা ডেন্টাল টেকনোলজিষ্টদের জন্য একটি সঠিক সরকারি নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারলে একদিকে যেমন দেশের দন্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে অন্যদিকে এ পেশার মান বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিপ্লোমা ডেন্টালদের সরকারী চাকুরি না হলেও প্রাইভেট প্রাক্টিসের মাধ্যমে হবে সম্মানজনক কর্মসংস্থান। এতে করে বেকারত্ব যেমন কমবে তেমনি দেশ গঠনে এবং দেশের গ্রামীন দন্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থ্যায় ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল)/ডেন্টাল টেকনোলজিষ্টগণ এখনকার চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

(লেখকঃ সুজিত কুমার তালুকদার, সাঃ সম্পাদক, বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ, বগুড়া জেলা শাখা , মোঃ মাহবুব আলম সেখ, সাঃ সম্পাদক বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ, সিরাজগঞ্জ জেলা শাখা)

আপনার মন্তব্য লিখুন :

আরও পড়ুন :

সংবাদটি শেয়ার করুন :