আজ বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৫৯ অপরাহ্ন

নার্স শাহিনুরকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার চালকের

ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহিনুর বেগমকে তিনজন মিলে ধর্ষণের পর বাস থেকে ফেলে হত্যা করা হয় বলে স্বীকার করেছে চালক নুরুজ্জামান নুর। কিশোরগঞ্জের আদালতে শনিবার রাতে ১৬৪ ধারায় এমন স্বীকারোক্তি দেয় সে।

চালক নুরুজ্জামান নুর জানায়, বাস থেকে ফেলে হত্যার আগে চালক নুরুজ্জামান ও চালকের সহকারী লালন মিয়াসহ তিনজন ধর্ষণ করে। তখন রাত সাড়ে আটটা। ভৈরব-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের বাজিতপুরের বিলপাড় গজারিয়া এলাকার একটি কলাবাগানে এ ঘটনা ঘটানো হয়।

স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেন আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল মামুন। আট দিনের রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদের চতুর্থ দিনে জবানবন্দি দিলেন নুরুজ্জামান। তার আগে অত্যন্ত গোপনীয়তা রক্ষা করে তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

রোববার বিকেলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন করেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার। পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদসহ ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।

এতে নুরুজ্জামানের স্বীকারোক্তির কথা উল্লেখ করে ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ধর্ষণ ও হত্যায় অংশ নেয় নুরুজ্জামান, লালন, আল আমিনসহ কয়েকজন। শাহিনুর হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আল আমিন পলাতক আছে। ঘটনার দিন তিনিই শাহিনুরকে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে পালিয়ে যায়। জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, দায় এড়াতে অভিযুক্তরা তাৎক্ষণিক কৌশল আঁটে। কৌশল হিসেবে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দিতে শাহিনুরকে ফের বাসে তোলা হয় এবং পরে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলা দেওয়া হয়। আবার তাঁরাই সড়ক থেকে তুলে এনে চিকিৎসা করানোর জন্য এখানে-সেখানে নিয়ে যায়। শেষে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

ডিআইজি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত তাঁদের বিরুদ্ধে আট দিন রিমান্ডে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। বাজিতপুর থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে বাসটি জব্দ করা হয়েছে। সড়কে চলাচলের জন্য বাসটির অনুমতি ছিল না। এই পাঁচজনের মধ্যের নুরুজ্জামান হত্যাকাণ্ডের যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করায় প্রথমে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।
নুরুজ্জামান স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেছেন, শাহিনুর বিকেলে ঢাকার বিমানবন্দর এলাকায় স্বর্ণলতা কাউন্টার থেকে তাঁর বাসের আরোহী হয়েছিলেন। নুরুজ্জামানকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের রাখা হয়েছে বাজিতপুর থানা হেফাজতে।

হত্যার পর শাহিনুর খোয়া যাওয়া প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়েছে জানিয়ে ডিআইজি আরও বলেন, ধর্ষণের আলামত সংরক্ষণ করে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শাহিনুর ইবনে সিনা হাসপাতালে ঢাকার কল্যাণপুর শাখায় নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাড়ি কটিয়াদী উপজেলা লোহাজুড়ি ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে। ঢাকা থেকে পিরিজপুরের মধ্যে চলাচলকারী স্বর্ণলতা পরিবহনের একটি বাসযোগে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি ফেরার পথে শাহিনুরকে হত্যা করা হয়। গত সোমবার রাত এগারোটার দিকে পুলিশ কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে শাহিনুরের মৃতদেহ উদ্ধার করে। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া চালক নুরুজ্জামান নুর ও চালকের সহকারী লালন মিয়াসহ গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ভেঙ্গরদি গ্রামের আল আমিন, লোহাদি গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও কটিয়াদীর ভোগপাড়া গ্রামের খোকন মিয়াকে আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :