আজ বৃহস্পতিবার, ২০ Jun ২০১৯, ০৭:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
«» ” উৎসর্গ ফাউন্ডেশন, শ্যামলী ম্যাটস শাখার পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা “ «» “উৎসর্গ ফাউন্ডেশ, বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবী মিলনমেলা রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ ৩০শে জুন “ «» ব্যথানাশক ঔষুধ ছাড়াই বিকল্প ম্যাজিক পেইন কিলার! «» বাংলাদেশের বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ সব ওষুধ এক মাসের মধ্যে ধ্বংস করার আদেশ দিয়েছে আদালত «» নিজের চেম্বার নেই : রকে বসে প্রতিদিন শত রোগী দেখেন গরীবের ডাক্তার «» আমি এসেছি বাংলাদেশ থেকে বিদেশে রোগী যাওয়া বন্ধ করতে : ডা. দেবী শেঠী «» চিকিৎসকদের সুরক্ষায় কড়া আইন করছে ভারত : হাসপাতালে বিশেষ নিরাপত্তাবলয় «» রেশম দিয়ে কৃত্রিম ধমনি : যুগান্তকারী আবিষ্কার বাঙালি চিকিৎসক-গবেষকদের «» নিজের টাকায় শিশুদের জীবন দান করা ডা. কফিল খান বকেয়া বেতনও পাচ্ছেন না «» ডাক্তারদের আত্মরক্ষা আন্দোলনের জেরে হাসপাতালগুলো এবার পুলিশি সুরক্ষা পেল

পার্কিনসন্স রোগের চিকিৎসায় ব্রিটিশ-বাংলাদেশী চিকিৎসকের কৃতিত্ব

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও অধ্যাপক টিপু আজিজ। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাংশনাল নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান। তাঁর উদ্ভাবিত পদ্ধতিতে লক্ষাধিক মানুষ পারকিনসনস রোগ থেকে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছে। তিনি নিউরোসার্জারিতে যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘মেডেল অব দ্য সোসাইটি অব ব্রিটিশ নিউরোলজিক্যাল সার্জনস (এসবিএনএস)’ পেয়েছেন।

সম্প্রতি, ব্রিটেনে পারকিনসন্স রোগের আধুনিক এক বিশেষ চিকিৎসা উদ্ভাবন করে কৃতিত্ব দেখিয়েছেন প্রফেসর টিপু আজিজ। ইতোমধ্যে এ চিকিৎসার মাধ্যমে দু’হাজারের বেশি রোগীর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তাঁদের শারীরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার জার্মান ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ‘ডয়েচে ভেলে’তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারকিনসন্স রোগ গোটা বিশ্বে বড় সমস্যা৷ বাংলাদেশে প্রতিবছর ষোলশ’র মতো মানুষ প্রাণ হারান৷ এর চিকিৎসায় নব্বইয়ের দশকে ‘ডিপ ব্রেইন স্টিম্যুলেশন’ পন্থা ব্যবহারের উপায় আবিষ্কার করেছেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রফেসর ড. টিপু আজিজ। ফলে ব্রিটেনে যাদের মধ্যে এই রোগ আছে, তাদের কাছে ব্যাপক পরিচিত পেয়েছেন প্রফেসর আজিজ।

তিনি বানরের উপর গবেষণা করে জেনেছেন যে, মস্তিষ্কের ঠিক কোন অংশে বৈদ্যুতিক স্পন্দন সৃষ্টির মাধ্যমে পারকিনসন্স রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তাঁর এই গবেষণার ভিত্তিতে নব্বইয়ের দশকে ব্রিটেনে পারকিনসন্স রোগীদের চিকিৎসায় ব্রেইন পেসমেকার ব্যবহার শুরু হয়।

টিপু আজিজ বলেন, পারকিনসন্স রোগীরা পাঁচ-ছয় বছর ঔষুধ খাওয়ার পরে নানা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার শিকার হন। কারো কারো শরীরের অনাকাঙ্খিত নড়াচড়া ভালো হওয়ার চেয়ে মোচড়ামুচড়িতে বদলে যায়। তখন তারা বসতে পারে না, নড়তে পারে না। তখন সার্জারি করলে উপকার হয়। পেসমেকারটির মাধ্যমে নির্দিষ্ট মাত্রায় মস্তিষ্কে ‘ইলেক্ট্রিক্যাল ইমপাল্স’ পাঠানো হয়, যা রোগীর শরীরের কাঁপুনি এবং জড়তা পুরোপুরি দূর করতে সক্ষম। তবে পুরো সার্জারির প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং সেটি সম্পন্ন করতে কয়েকঘণ্টা সময় লাগে৷ শতকরা সত্তরভাগ ক্ষেত্রে অপারেশন সফল হয়।

ব্রিটেন ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, ভারতসহ কয়েকটি দেশে পারকিনসন্স রোগের এই চিকিৎসাপদ্ধতি চালু করেছেন প্রফেসর টিপু আজিজ। গোটা বিশ্বে অন্তত আড়াই লাখ রোগী এভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে নিজের মাতৃভূমি বাংলাদেশে এই চিকিৎসা চালু করা তাঁর পক্ষে এখনো সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, এটার একটা কারণ হতে পারে যে অতীতে বাংলাদেশে এখনকার মতো এতো নিউরোসার্জন ছিল না। তখন জীবন বাঁচানো প্রথম দরকার ছিল। বর্তমানে সেসব জরুরি চিকিৎসার জন্য অনেক চিকিৎসক আছেন। এখন ‘ডিজেনারেটেড ডিজিজ’ – যেসব মানুষকে মারবে না, সেসব সার্জারির চাহিদা এখন ধীরে ধীরে বাড়ছে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সম্প্রতি নিউরোসার্জারিতে ব্রিটেনের সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘সোসাইটি অব ব্রিটিশ নিউরোলজিক্যাল সার্জন্স’ মেডেল পেয়েছেন ড. টিপু আজিজ৷ অদূর ভবিষ্যতে নিজের মাতৃভূমিতেও পারকিনসন্স রোগের আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে চান তিনি।

একনজরে অধ্যাপক ডা. টিপু আজিজ:

টিপু আজিজের জন্ম ঢাকায়, ১৯৫৬ সালে। বাবা মোহাম্মদ এম এ আজিজও ছিলেন চিকিৎসক। আদি বাড়ি ফরিদপুরের রাজবাড়ী উপজেলায়। তাঁরা দুই ভাই, দুই বোন। মা জাহেদা আজিজ সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ১৯৭৩ সালে চাকরি নিয়ে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। তখন টিপু আজিজের বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। সেই থেকে অক্সফোর্ড শহরে বসবাস করছেন প্রখ্যাত এই চিকিৎসাবিজ্ঞানী।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নুফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অব সার্জিক্যাল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক টিপু আজিজ। তাঁর অধীনে বর্তমানে তিনজন শিক্ষার্থী পিএইচডি করছেন। তাঁদের মধ্যে অ্যালেক্স গ্রিন নামের এক ছাত্র উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্রেইন স্টিমুলেশন পদ্ধতি প্রয়োগ নিয়ে গবেষণা করছেন। এর আগে ২০ জন শিক্ষার্থী তাঁর অধীনে পিএইচডি সম্পন্ন করে বিভিন্ন দেশে ব্রেইন স্টিমুলেশন নিয়ে কাজ করছেন। এ ছাড়া তিনি ডিপ ব্রেইন সার্জারির প্রশিক্ষণ দেন। ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, ইউক্রেন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে ডিপ ব্রেইন স্টিম্যুলেশন সেন্টার চালুতে সহায়তা করেছেন তিনি। যুক্তরাজ্যের ১৩টি হাসপাতালে পারকিনসন চিকিৎসার ওই সেবা চালু হয়েছে।

টিপু আজিজ যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন থেকে স্নাতক করেছেন। কিংস কলেজ থেকে এমবিবিএস করেছেন। এরপর ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে নিউরোফিজিওলজি বিষয়ে পিএইচডি করেন। পিএইচডি গবেষণায় তিনি বানরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখেন, ডিপ ব্রেইন স্টিমুলেশনের মাধ্যমে পারকিনসন রোগের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। ১৯৯২ সালে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নুফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অব সার্জিক্যাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন :
সংবাদটি শেয়ার করুন :