ঢাকা ০৩:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণ চিকিৎসকদের গতানুগতিক ধারার বাইরে মুক্তভাবে চিন্তা করার আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

দেশের তরুণ চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মেধা ও স্বপ্নকে নির্দিষ্ট কোনো ছাঁচে বা বাক্সে বন্দি না রেখে মুক্তভাবে চিন্তা করার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রথাগত বা গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে তরুণদের নিজস্ব স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়ার পথ তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারক ও শিক্ষকেরা কেবল সহায়ক বা অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবেন।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিকেল বায়োকেমিস্টস’ আয়োজিত ১৫তম মেডিকেল বায়োকেমিস্ট্রি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তরুণদের বিশ্বমানের গবেষক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশেষ করে মলিকুলার বায়োলজি এবং জেনেটিকস বা জিনতত্ত্বের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসছে। হিউম্যান জিনোম প্রজেক্টের মতো বৈশ্বিক উদ্যোগে উন্নত বিশ্বের বাইরে অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশের পর্যাপ্ত ডেটা অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এখনো এখানে কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এ দেশের মেধাবী তরুণ চিকিৎসকেরা একটু সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে বিশ্বমানের গবেষক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধ্যাপক লিয়াকত আলীর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা সীমিত থাকলেও একাগ্রতা ও ভিশন নিয়ে কীভাবে আন্তর্জাতিক মানের গবেষক হতে হয়, তিনি তার উজ্জ্বল উদাহরণ।

মেডিকেল বায়োকেমিস্ট্রি খাতের বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পুনরায় যুক্ত করা এবং তাঁদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

ড. এম এ মুহিত আরও উল্লেখ করেন, ২০০০ সালের দিকে সরকারের একটি সঠিক নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলেই আজ দেশে মেডিকেল বায়োকেমিস্ট্রিতে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট কোয়ালিফিকেশনধারী চিকিৎসকের সংখ্যা ৫৩০ ছাড়িয়েছে এবং সোসাইটির সদস্যসংখ্যা প্রায় ছয় শতে উন্নীত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে সঠিক পলিসি ইন্টারভেনশন কীভাবে একটি অবহেলিত খাতকে বদলে দিতে পারে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত: ২৪ ঘণ্টায় ২ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩৯১

তরুণ চিকিৎসকদের গতানুগতিক ধারার বাইরে মুক্তভাবে চিন্তা করার আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশের সময় : ০১:৪৫:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

দেশের তরুণ চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের মেধা ও স্বপ্নকে নির্দিষ্ট কোনো ছাঁচে বা বাক্সে বন্দি না রেখে মুক্তভাবে চিন্তা করার সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রথাগত বা গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে তরুণদের নিজস্ব স্বপ্নের ক্যারিয়ার গড়ার পথ তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারক ও শিক্ষকেরা কেবল সহায়ক বা অনুঘটকের ভূমিকা পালন করবেন।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিকেল বায়োকেমিস্টস’ আয়োজিত ১৫তম মেডিকেল বায়োকেমিস্ট্রি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তরুণদের বিশ্বমানের গবেষক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশেষ করে মলিকুলার বায়োলজি এবং জেনেটিকস বা জিনতত্ত্বের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসছে। হিউম্যান জিনোম প্রজেক্টের মতো বৈশ্বিক উদ্যোগে উন্নত বিশ্বের বাইরে অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশের পর্যাপ্ত ডেটা অন্তর্ভুক্ত না থাকায় এখনো এখানে কাজের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। এ দেশের মেধাবী তরুণ চিকিৎসকেরা একটু সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে বিশ্বমানের গবেষক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অধ্যাপক লিয়াকত আলীর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা সীমিত থাকলেও একাগ্রতা ও ভিশন নিয়ে কীভাবে আন্তর্জাতিক মানের গবেষক হতে হয়, তিনি তার উজ্জ্বল উদাহরণ।

মেডিকেল বায়োকেমিস্ট্রি খাতের বিভিন্ন সংকটের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পুনরায় যুক্ত করা এবং তাঁদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা চালুর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

ড. এম এ মুহিত আরও উল্লেখ করেন, ২০০০ সালের দিকে সরকারের একটি সঠিক নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলেই আজ দেশে মেডিকেল বায়োকেমিস্ট্রিতে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট কোয়ালিফিকেশনধারী চিকিৎসকের সংখ্যা ৫৩০ ছাড়িয়েছে এবং সোসাইটির সদস্যসংখ্যা প্রায় ছয় শতে উন্নীত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে সঠিক পলিসি ইন্টারভেনশন কীভাবে একটি অবহেলিত খাতকে বদলে দিতে পারে।