ঢাকা ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১২০৭

  • মেডি নিউজ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ২০ বার পঠিত

হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১২০৭

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২২ অক্টোবর ২০২৬

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হামের ৯৯৫টি নতুন রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। আর গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৭ জনে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত তথ্যের বরাতে এ পরিসংখ্যান জানা গেছে।

হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা শিশুদের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে অল্প বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে, এমন নয়। নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু এবং সন্দেহজনক হামের উপসর্গে মৃত্যু আলাদা পরিসংখ্যান। তাই মোট মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্লেষণের সময় এই পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের ৯৯৫টি নতুন রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গের রোগীদের মধ্যে নতুন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে দুই শিশুর।

১৫ মার্চ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬০ জনে। এই সময়ে নিশ্চিত হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২০৭।

এই পরিসংখ্যানের তাৎপর্য হলো, পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু নতুন রোগী শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা, জটিল রোগীদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের কার্যকর উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এর প্রধান লক্ষণ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাসটি সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, খুব ছোট শিশু এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হাম গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব জটিলতা দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রথমত, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। টিকার মাধ্যমে হামের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। যেসব শিশুর টিকা নেওয়া বাকি রয়েছে, তাদের বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

দ্বিতীয়ত, জ্বর ও ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক নিস্তেজতা, খেতে বা পান করতে না পারা কিংবা খিঁচুনির মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া কমাতে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের সংস্পর্শ থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি রোগী শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা এবং টিকাদান কার্যক্রমের সমন্বয় জোরদার করা জরুরি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, বাড়ছে জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ

হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১২০৭

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৭:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১২০৭

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২২ অক্টোবর ২০২৬

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে সন্দেহজনক হামের রোগী শনাক্ত হওয়ায় শিশুদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হামের ৯৯৫টি নতুন রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। আর গত ১৫ মার্চ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত নিশ্চিত হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২০৭ জনে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুমের প্রকাশিত তথ্যের বরাতে এ পরিসংখ্যান জানা গেছে।

হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা শিশুদের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে অল্প বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে রোগের লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর দ্রুত অবস্থা খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করা জরুরি—হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে, এমন নয়। নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু এবং সন্দেহজনক হামের উপসর্গে মৃত্যু আলাদা পরিসংখ্যান। তাই মোট মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্লেষণের সময় এই পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামের ৯৯৫টি নতুন রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে নিশ্চিত হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গের রোগীদের মধ্যে নতুন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে দুই শিশুর।

১৫ মার্চ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সন্দেহজনক হামের রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ৭৬০ জনে। এই সময়ে নিশ্চিত হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২০৭।

এই পরিসংখ্যানের তাৎপর্য হলো, পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু নতুন রোগী শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা, জটিল রোগীদের যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধের কার্যকর উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পরে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এর প্রধান লক্ষণ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে ভাইরাসটি সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, খুব ছোট শিশু এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হাম গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা ও মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এসব জটিলতা দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রথমত, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। টিকার মাধ্যমে হামের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। যেসব শিশুর টিকা নেওয়া বাকি রয়েছে, তাদের বিষয়ে স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

দ্বিতীয়ত, জ্বর ও ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক নিস্তেজতা, খেতে বা পান করতে না পারা কিংবা খিঁচুনির মতো লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া কমাতে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের সংস্পর্শ থেকে যথাসম্ভব দূরে রাখতে হবে এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি রোগী শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা, চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা এবং টিকাদান কার্যক্রমের সমন্বয় জোরদার করা জরুরি।