
টিকার জোগান বাড়লেও নিয়ন্ত্রণে আসছে না হাম: ৫২ দিনে ৩২৪ শিশুর মৃত্যু।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ৭ মে, ২০২৬
দেশে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধের জন্য টিকার সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হলেও পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হচ্ছে না। সরকারি জরুরি টিকাদান কর্মসূচি চলা সত্ত্বেও গত ৫২ দিনে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ৩২৪ জন শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল টিকাদান নয় বরং সংক্রমণ রোধে সমন্বিত পদক্ষেপ ও দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি।
বুধবার ইউনিসেফের পক্ষ থেকে পাঠানো ১৫ লাখ ডোজ হামের টিকা এবং ৯ হাজার টিডি-টিটাস টিকা গ্রহণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানান:
এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে টিকার নতুন চালান দেশে পৌঁছাবে।
আগামী রোববারের মধ্যে ১০টি রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রায় ১.৮ কোটি ডোজ টিকা আসার কথা রয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ইউনিসেফের মাধ্যমে মোট ৯ কোটি ৫০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলমান ‘হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’-এর আওতায় ইতিমধ্যে লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ শতাংশ (১ কোটি ৬৮ লাখ শিশু) টিকা গ্রহণ করেছে।
সংক্রমণ ও মৃত্যুর সর্বশেষ পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
মোট মৃত্যু: ৫২ দিনে ৩২৪ জন (এর মধ্যে ৫৬ জন নিশ্চিতভাবে হামে এবং ২৬৮ জন উপসর্গে মারা গেছে)।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ৩৭৩ জন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত সিলেট বিভাগে (১৮২ জন) এবং এরপর ঢাকা বিভাগে (১২২ জন)।
এ পর্যন্ত মোট ৪৪,২৬০ জন শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। তবে আশার কথা হলো, গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৫৫ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
শয্যা ও আইসিইউ সংকট
দেশের বিভিন্ন বড় হাসপাতালে রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও কর্মীরা।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত দেড় মাসে ২৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ৬৪ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগীর কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। আইসিইউ সংকটের কারণে মৃত্যুর অভিযোগও উঠেছে।
রাজশাহী বিভাগে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে। চিকিৎসকদের মতে, মৃত শিশুদের অধিকাংশই টিকা নেয়নি এবং তারা চরম পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল।
সিলেটে গত এক সপ্তাহে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে বিভাগে মোট প্রাণহানি ১৯ জন।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. মুশতাক হোসেনের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুধু টিকা যথেষ্ট নয়। তিনি কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা বলেছেন:
দ্রুত রোগী শনাক্ত করে তাদের আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা।
উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ।
বিনামূল্যে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং আইসিইউসহ জরুরি সেবার মান বাড়ানো।
মেডি নিউজ ডেস্ক: 











