ঢাকা ০১:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশু রামিসা হত্যা মামলা আজই জমা হতে পারে চার্জশিট, প্রস্তুত ডিএনএ রিপোর্ট

শিশু রামিসা হত্যা মামলা আজই জমা হতে পারে চার্জশিট, প্রস্তুত ডিএনএ রিপোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ মে, ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত দ্রুত গতিতে শেষ পর্যায়ে এসেছে। আজ রোববারই (২৪ মে) এই মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে দাখিল করা হতে পারে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অর্থাৎ ডিএনএ পরীক্ষার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে।

এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ জানান, চার্জশিট প্রস্তুতকরণের কাজ চলছে। ডিএনএ রিপোর্টসহ মামলার যাবতীয় নথিপত্র ও প্রতিবেদন বর্তমানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আজই এটি আদালতে পেশ করা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মে এই ঘটনার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তার এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার দিন অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে ফুসলিয়ে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে এই নৃশংস অপরাধ সংঘটিত করেন। অপরাধ আড়াল করতে তিনি আলামত ও প্রমাণ নষ্ট করারও চেষ্টা চালিয়েছিলেন এবং এরপর এলাকা থেকে পালিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত দাবি করেছেন যে, অপরাধটি করার পূর্বে তিনি ‘ইয়াবা’ নামক মাদক সেবন করেছিলেন।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার এবং অভিযুক্তের মধ্যে আগে থেকে কোনো ধরনের শত্রুতা বা বিরোধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গত ২০ মে শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরপরই তৎপরতা দেখিয়ে পুলিশ মূল অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে এবং তদন্তের স্বার্থে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। ডিএনএ রিপোর্টের দ্রুত প্রাপ্তি এই মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

শিশু রামিসা হত্যা মামলা আজই জমা হতে পারে চার্জশিট, প্রস্তুত ডিএনএ রিপোর্ট

শিশু রামিসা হত্যা মামলা আজই জমা হতে পারে চার্জশিট, প্রস্তুত ডিএনএ রিপোর্ট

প্রকাশের সময় : ০২:৩১:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

শিশু রামিসা হত্যা মামলা আজই জমা হতে পারে চার্জশিট, প্রস্তুত ডিএনএ রিপোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ মে, ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে নির্যাতন ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত দ্রুত গতিতে শেষ পর্যায়ে এসেছে। আজ রোববারই (২৪ মে) এই মামলার চূড়ান্ত চার্জশিট (অভিযোগপত্র) আদালতে দাখিল করা হতে পারে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে মামলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অর্থাৎ ডিএনএ পরীক্ষার কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে।

এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান ভূঁইয়া নিপুণ জানান, চার্জশিট প্রস্তুতকরণের কাজ চলছে। ডিএনএ রিপোর্টসহ মামলার যাবতীয় নথিপত্র ও প্রতিবেদন বর্তমানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আজই এটি আদালতে পেশ করা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মে এই ঘটনার মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ তার এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরবর্তীতে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার দিন অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে ফুসলিয়ে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে এই নৃশংস অপরাধ সংঘটিত করেন। অপরাধ আড়াল করতে তিনি আলামত ও প্রমাণ নষ্ট করারও চেষ্টা চালিয়েছিলেন এবং এরপর এলাকা থেকে পালিয়ে যান। জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে অভিযুক্ত দাবি করেছেন যে, অপরাধটি করার পূর্বে তিনি ‘ইয়াবা’ নামক মাদক সেবন করেছিলেন।

তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার এবং অভিযুক্তের মধ্যে আগে থেকে কোনো ধরনের শত্রুতা বা বিরোধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গত ২০ মে শিশু রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরপরই তৎপরতা দেখিয়ে পুলিশ মূল অভিযুক্ত ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে এবং তদন্তের স্বার্থে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। ডিএনএ রিপোর্টের দ্রুত প্রাপ্তি এই মামলার বিচার প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।