
ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজের (মমেক) ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলেজের ক্লাস ও পরীক্ষা সাত দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দ্রুত হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে ছাত্রাবাসে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।আহতরা হলেন—কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মুয়াজ ও মীর হামিদুর। মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহবায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের এবং হামিদুর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের কর্মী হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে মুয়াজ মীর হামিদুরের কক্ষে যান। সেখানে বাইকে তেল ভরা নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে হামিদুর ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে তার মাথায় স্টিলের পাইপ দিয়ে আঘাত করা হয়। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম জানান, দুজনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শনিবার সকালে ঢাকা মেডিক্যার কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হামিদুর মমেক হাসপাতালের ছয় নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।
ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় নাফিউল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনও কোনো মামলা হয়নি।
আজ শনিবার সকালে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল আলম খান জানান, সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী সাত দিনের জন্য কলেজের সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া শনিবার সকাল আটটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মেডি নিউজ ডেস্ক: 








