ঢাকা ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আপনার শিশুর হাম হচ্ছে না তো? জেনে নিন প্রাথমিক লক্ষণগুলো

আপনার শিশুর হাম হচ্ছে না তো? জেনে নিন প্রাথমিক লক্ষণগুলো
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ মে, ২০২৬

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দিলেও যেকোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। সঠিক সময়ে লক্ষণ চিনে ব্যবস্থা না নিলে হাম থেকে পরবর্তীতে নিউমোনিয়া বা জটিল শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আপনার শিশু বা পরিবারের কেউ হামে আক্রান্ত কি না, তা বোঝার জন্য নিচের লক্ষণগুলোর দিকে নজর দিন:

হামের প্রধান লক্ষণসমূহ:
তীব্র জ্বর: হামের শুরুতে খুব বেশি জ্বর (১০৩-১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত) হতে পারে।

কাশি ও সর্দি: সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডার মতো অনবরত নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শুকনো কাশি হওয়া।

চোখ লাল হওয়া: চোখ লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া বা চোখ দিয়ে পানি পড়া (Conjunctivitis)।

কোপ্লিক স্পটস (Koplik’s Spots): জ্বরের ২-৩ দিন পর মুখের ভেতর গালের ভেতরের অংশে ছোট ছোট সাদাটে বা নুনের দানার মতো দাগ দেখা দেওয়া।

শরীরে র‍্যাশ বা লালচে দানা: জ্বরের ৩ থেকে ৫ দিন পর সাধারণত মুখমণ্ডল ও কানের পেছন থেকে লালচে দানা বের হতে শুরু করে এবং দ্রুত তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
হামের লক্ষণ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে আলাদা রাখুন এবং প্রচুর তরল খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পান করান। তবে নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে:

১. যদি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
২. প্রচণ্ড কান ব্যথা বা কানে কম শোনা।
৩. অনবরত বমি বা পাতলা পায়খানা হওয়া।
৪. জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে বা খিঁচুনি দেখা দিলে।

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে এমআর (MR) টিকা নেওয়া। আপনার শিশুকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে হামের প্রতিষেধক টিকা নিশ্চিত করুন।

ট্যাগস :

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম চিকিৎসার প্রটোকল ও গাইডলাইন উদ্বোধন

আপনার শিশুর হাম হচ্ছে না তো? জেনে নিন প্রাথমিক লক্ষণগুলো

প্রকাশের সময় : ০২:০৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

আপনার শিশুর হাম হচ্ছে না তো? জেনে নিন প্রাথমিক লক্ষণগুলো
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ মে, ২০২৬

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত শিশুদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দিলেও যেকোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। সঠিক সময়ে লক্ষণ চিনে ব্যবস্থা না নিলে হাম থেকে পরবর্তীতে নিউমোনিয়া বা জটিল শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

আপনার শিশু বা পরিবারের কেউ হামে আক্রান্ত কি না, তা বোঝার জন্য নিচের লক্ষণগুলোর দিকে নজর দিন:

হামের প্রধান লক্ষণসমূহ:
তীব্র জ্বর: হামের শুরুতে খুব বেশি জ্বর (১০৩-১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত) হতে পারে।

কাশি ও সর্দি: সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডার মতো অনবরত নাক দিয়ে পানি পড়া এবং শুকনো কাশি হওয়া।

চোখ লাল হওয়া: চোখ লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া বা চোখ দিয়ে পানি পড়া (Conjunctivitis)।

কোপ্লিক স্পটস (Koplik’s Spots): জ্বরের ২-৩ দিন পর মুখের ভেতর গালের ভেতরের অংশে ছোট ছোট সাদাটে বা নুনের দানার মতো দাগ দেখা দেওয়া।

শরীরে র‍্যাশ বা লালচে দানা: জ্বরের ৩ থেকে ৫ দিন পর সাধারণত মুখমণ্ডল ও কানের পেছন থেকে লালচে দানা বের হতে শুরু করে এবং দ্রুত তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
হামের লক্ষণ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে রোগীকে আলাদা রাখুন এবং প্রচুর তরল খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পান করান। তবে নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে:

১. যদি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।
২. প্রচণ্ড কান ব্যথা বা কানে কম শোনা।
৩. অনবরত বমি বা পাতলা পায়খানা হওয়া।
৪. জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে বা খিঁচুনি দেখা দিলে।

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সঠিক সময়ে এমআর (MR) টিকা নেওয়া। আপনার শিশুকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে হামের প্রতিষেধক টিকা নিশ্চিত করুন।