ঢাকা ০১:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামে শিশুমৃত্যু ও টিকা সংকট তদন্তে নামছে সরকার

আপনার পোর্টাল বা ফেসবুক পেজের জন্য সংবাদটি একদম পেশাদার নিউজ ফরম্যাটে নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:


হামে শিশুমৃত্যুর তদন্তে নামছে সরকার, খতিয়ে দেখা হবে টিকা সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ মে, ২০২৬

দেশে গত এক দশকের মধ্যে হামের সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাব এবং এর ফলে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে সরকার। টিকার সংকট কেন তৈরি হলো এবং এক্ষেত্রে কারো কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে দেশবাসীকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

শনিবার (৯ মে) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিল্টন হলে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) আয়োজিত ‘হামের প্রাদুর্ভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, “হামে কেন এতগুলো শিশুর মৃত্যু হলো, তা তদন্ত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমাদের সরকার একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকার। জনগণের কাছে প্রতিটি ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে আমরা প্রস্তুত।”

বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস একটি উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৯ সালের পর দেশে আর কোনো ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন বা জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি হয়নি। বর্তমানে শিশুদের ঝুঁকির ধরণ বুঝতে রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (আইইডিসিআর) জিনোম সিকোয়েন্সিং করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গোলটেবিল বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন।

  • ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ বলেন, ইউনিসেফের সতর্কতা সত্ত্বেও কেন টিকা ও ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সরবরাহ বন্ধ ছিল, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

  • অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ উল্লেখ করেন, মহামারি স্বীকার না করার মানসিকতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

  • ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, বস্তি এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ ও অপুষ্ট শিশুদের মধ্যে মৃত্যুহার বেশি। তাদের জন্য ‘কমিউনিটি কোয়ারেন্টাইন’ জরুরি।

উত্তরণের পথ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা জানান, টিকা সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর হার বাড়ানো প্রয়োজন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে একটি ‘ন্যাশনাল গাইডলাইন’ তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়।

বিএইচআরএফ সভাপতি প্রতীক ইজাজের সভাপতিত্বে বৈঠকে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), আইসিডিডিআর,বি-সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম চিকিৎসার প্রটোকল ও গাইডলাইন উদ্বোধন

হামে শিশুমৃত্যু ও টিকা সংকট তদন্তে নামছে সরকার

প্রকাশের সময় : ১১:৪৭:৫১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

আপনার পোর্টাল বা ফেসবুক পেজের জন্য সংবাদটি একদম পেশাদার নিউজ ফরম্যাটে নিচে সাজিয়ে দেওয়া হলো:


হামে শিশুমৃত্যুর তদন্তে নামছে সরকার, খতিয়ে দেখা হবে টিকা সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক | ১০ মে, ২০২৬

দেশে গত এক দশকের মধ্যে হামের সর্বোচ্চ প্রাদুর্ভাব এবং এর ফলে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে সরকার। টিকার সংকট কেন তৈরি হলো এবং এক্ষেত্রে কারো কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে দেশবাসীকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

শনিবার (৯ মে) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. মিল্টন হলে বাংলাদেশ হেলথ রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএইচআরএফ) আয়োজিত ‘হামের প্রাদুর্ভাব ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, “হামে কেন এতগুলো শিশুর মৃত্যু হলো, তা তদন্ত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আমাদের সরকার একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সরকার। জনগণের কাছে প্রতিটি ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে আমরা প্রস্তুত।”

বৈঠকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস একটি উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৯ সালের পর দেশে আর কোনো ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন বা জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি হয়নি। বর্তমানে শিশুদের ঝুঁকির ধরণ বুঝতে রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (আইইডিসিআর) জিনোম সিকোয়েন্সিং করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গোলটেবিল বৈঠকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্তমান পরিস্থিতির জন্য অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন।

  • ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ বলেন, ইউনিসেফের সতর্কতা সত্ত্বেও কেন টিকা ও ভিটামিন-এ ক্যাপসুল সরবরাহ বন্ধ ছিল, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

  • অধ্যাপক ডা. বে-নজির আহমেদ উল্লেখ করেন, মহামারি স্বীকার না করার মানসিকতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

  • ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, বস্তি এলাকার নিম্নআয়ের মানুষ ও অপুষ্ট শিশুদের মধ্যে মৃত্যুহার বেশি। তাদের জন্য ‘কমিউনিটি কোয়ারেন্টাইন’ জরুরি।

উত্তরণের পথ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা জানান, টিকা সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠার পাশাপাশি শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং প্রথম ছয় মাস শুধু বুকের দুধ খাওয়ানোর হার বাড়ানো প্রয়োজন। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট এড়াতে একটি ‘ন্যাশনাল গাইডলাইন’ তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়।

বিএইচআরএফ সভাপতি প্রতীক ইজাজের সভাপতিত্বে বৈঠকে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), আইসিডিডিআর,বি-সহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।