ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত প্রায় ৪ কোটি মানুষ, চিকিৎসক সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ

দেশে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত প্রায় ৪ কোটি মানুষ, চিকিৎসক সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ

স্বাস্থ্য ডেস্ক | Medi News

দেশে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় চার কোটি। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে এ রোগের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ১৪০ জন বলে জানা গেছে। রোগীর সংখ্যা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের এই ব্যবধান দেশের লিভার রোগের চিকিৎসা এবং জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভার বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এ রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা না দেওয়ায় রোগটি সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

ফ্যাটি লিভার হলো লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়ার একটি অবস্থা। প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথ জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন ধরে লিভারে চর্বি জমে থাকা এবং প্রদাহ তৈরি হলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে লিভারের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। গুরুতর পর্যায়ে রোগটি লিভার সিরোসিসের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ, মিষ্টি পানীয় পান, স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও যথাযথ চিকিৎসা পরামর্শ।

দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষের ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি থাকায় এ বিষয়ে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি, রোগ নির্ণয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে লিভারের রোগ সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা এবং প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ডায়াবেটিসের মতো বিপাকীয় রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যাদের অতিরিক্ত ওজন বা অন্যান্য ঝুঁকির কারণ রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।

সব মিলিয়ে, দেশে ফ্যাটি লিভারের ব্যাপক বিস্তার এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সীমিত সংখ্যা লিভার স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে এ রোগের জটিলতা কমানো সম্ভব।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম তলা থেকে পড়ে ছাত্রীর মৃত্যু

দেশে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত প্রায় ৪ কোটি মানুষ, চিকিৎসক সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশের সময় : ১২:১৮:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

দেশে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত প্রায় ৪ কোটি মানুষ, চিকিৎসক সংকটে বাড়ছে উদ্বেগ

স্বাস্থ্য ডেস্ক | Medi News

দেশে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় চার কোটি। বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে এ রোগের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ১৪০ জন বলে জানা গেছে। রোগীর সংখ্যা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের এই ব্যবধান দেশের লিভার রোগের চিকিৎসা এবং জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্যাটি লিভার বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এ রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণ দেখা না দেওয়ায় রোগটি সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

ফ্যাটি লিভার হলো লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়ার একটি অবস্থা। প্রাথমিক পর্যায়ে যথাযথ জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন ধরে লিভারে চর্বি জমে থাকা এবং প্রদাহ তৈরি হলে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে লিভারের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। গুরুতর পর্যায়ে রোগটি লিভার সিরোসিসের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার গ্রহণ, মিষ্টি পানীয় পান, স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং নিয়মিত শরীরচর্চার অভাব ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই রোগ প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রয়োজন নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও যথাযথ চিকিৎসা পরামর্শ।

দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষের ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি থাকায় এ বিষয়ে চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধি, রোগ নির্ণয়ের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একই সঙ্গে লিভারের রোগ সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করা এবং প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে সুষম খাবার গ্রহণ, নিয়মিত হাঁটা ও ব্যায়াম, শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ডায়াবেটিসের মতো বিপাকীয় রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। যাদের অতিরিক্ত ওজন বা অন্যান্য ঝুঁকির কারণ রয়েছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত।

সব মিলিয়ে, দেশে ফ্যাটি লিভারের ব্যাপক বিস্তার এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সীমিত সংখ্যা লিভার স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আরও কার্যকর উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো রোগ শনাক্তকরণ এবং সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা গেলে এ রোগের জটিলতা কমানো সম্ভব।