ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি : বায়োমেট্রিক চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি : বায়োমেট্রিক চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বায়োমেট্রিক হাজিরার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কর্মস্থলের বাইরে থেকে উপস্থিতি দেখানোর সুযোগ বন্ধ করতে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি হাসপাতালের আর্থিক কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা বাড়াতে একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা বাবদ আদায় করা অর্থ ডিজিটাল মাধ্যমে সংগ্রহ এবং এসব লেনদেনের তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে উপস্থিতির তথ্য শুধু হাজিরা হিসেবেই থাকবে না; বরং তা বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর ফলে নিয়মিত দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন সহজ হবে। একই সঙ্গে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি কিংবা দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করাও সম্ভব হবে।

হাসপাতালের সামগ্রিক কর্মদক্ষতা ও সেবার মান পর্যালোচনায় নিয়মিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে ভালো পারফরম্যান্স করা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠানও চিহ্নিত করা হবে।

ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতে প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল ফলাফল করা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মী নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিল আদায়ে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব লেনদেনকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে নগদ অর্থ লেনদেন কমার পাশাপাশি প্রতিটি আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। ফলে হাসপাতালের আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই এবং আর্থিক অনিয়ম শনাক্ত করা সহজ হবে।

তবে ফি পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের রোগী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা নিতে গিয়ে যাতে দরিদ্র রোগীরা অতিরিক্ত আর্থিক চাপে না পড়েন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবার মান উন্নয়নে ব্যয় করার সুযোগ থাকবে।

একই সঙ্গে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, রাজস্ব আদায় এবং হাসপাতালের আয়-ব্যয়ের তথ্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা গেলে সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের উপস্থিতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান—তিন ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা বাড়ানো সম্ভব হবে।

ট্যাগস :

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি : বায়োমেট্রিক চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর।

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি : বায়োমেট্রিক চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর।

প্রকাশের সময় : ০৩:৩১:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারি : বায়োমেট্রিক চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বায়োমেট্রিক হাজিরার পাশাপাশি নির্দিষ্ট কর্মস্থলের বাইরে থেকে উপস্থিতি দেখানোর সুযোগ বন্ধ করতে জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর পাশাপাশি হাসপাতালের আর্থিক কার্যক্রমেও স্বচ্ছতা বাড়াতে একাধিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা বাবদ আদায় করা অর্থ ডিজিটাল মাধ্যমে সংগ্রহ এবং এসব লেনদেনের তথ্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে উপস্থিতির তথ্য শুধু হাজিরা হিসেবেই থাকবে না; বরং তা বেতন, ছুটি ও পদোন্নতির মতো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এর ফলে নিয়মিত দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন সহজ হবে। একই সঙ্গে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি কিংবা দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করাও সম্ভব হবে।

হাসপাতালের সামগ্রিক কর্মদক্ষতা ও সেবার মান পর্যালোচনায় নিয়মিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসে ভালো পারফরম্যান্স করা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠানও চিহ্নিত করা হবে।

ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহিত করতে প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ধারাবাহিকভাবে দুর্বল ফলাফল করা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে শুধু সংশ্লিষ্ট কর্মী নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

ইউজার ফি, কেবিন ভাড়া, আইসিইউ চার্জ এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিল আদায়ে ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব লেনদেনকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এতে নগদ অর্থ লেনদেন কমার পাশাপাশি প্রতিটি আর্থিক লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। ফলে হাসপাতালের আয়-ব্যয়ের হিসাব যাচাই এবং আর্থিক অনিয়ম শনাক্ত করা সহজ হবে।

তবে ফি পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিম্নআয়ের রোগী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা নিতে গিয়ে যাতে দরিদ্র রোগীরা অতিরিক্ত আর্থিক চাপে না পড়েন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতালের বিভিন্ন সেবা থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হাসপাতালের রক্ষণাবেক্ষণ ও সেবার মান উন্নয়নে ব্যয় করার সুযোগ থাকবে।

একই সঙ্গে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম, রাজস্ব আদায় এবং হাসপাতালের আয়-ব্যয়ের তথ্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা গেলে সরকারি হাসপাতালের কর্মীদের উপস্থিতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান—তিন ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা বাড়ানো সম্ভব হবে।