ঢাকা ১২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
হামের টীকাদান কর্মসূচিতে জনগনের অংশগ্রহণ এর মাধ্যমে শিশু মৃত্যু নিয়ন্ত্রণের আহবান জানিয়েছে : ড্যাব। একই বিষয়ে বারবার ফেল, অভিমানে জীবন দিলেন : মেডিকেল ছাএী নওশীন। বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত এক চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে : ড্যাব। নিটোর এ পরিচালক পদে ১ বছরের জন্য চুক্তিভিওিক নিয়োগ পেয়েছেন : অধ্যাপক ডা: আবুল কেনান। ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ( ড্যাব) কতৃক আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে ” স্বাধীনতার ঘোষক ও রণাঙ্গনের জিয়া” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক এর উপর হামলা : স্থানীয় যুবদল কর্মী আটক। বিশ্ব যক্ষা দিবস ২০২৬, Yes We Can : End TB প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও বৈজ্ঞানিক সেমিনার। সরকারি হাসপাতালে আইসিইউ না থাকার জন্য হাসপাতাল এর পরিচালক দায়ী নয় : ড্যাব সভাপতি আজ ২৬ শে মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ড্যাব এর পক্ষ থেকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন: অধ্যাপক ডা: শারফুজ্জামান খান রুবেল এর মৃত্যুতে ড্যাবের গভীর শোকবার্তা :

একই বিষয়ে বারবার ফেল, অভিমানে জীবন দিলেন : মেডিকেল ছাএী নওশীন।

মেডিনিউজ ডেক্স:

এক বিষয়ে বারবার ফেইল, অভিমানে জীবন দিলেন : মেডিকেল ছাএী নওশিন।

একটি বিষয়ে পাঁচবার পরীক্ষা দিতে হয়েছে অর্পিতা নওশিনকে। কিন্তু উত্তীর্ণ হওয়ার মত নম্বর মেলেনি শিক্ষকের পক্ষ থেকে। আবারও ফরম ফিলআপের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাড়ি থেকে টাকা নিয়েছিলেন নওশিন। কিন্তু এরই মধ্যে অভিমানে চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হোস্টেলের নিজ কক্ষ থেকে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয় বন্ধুরা। কিন্তু ততক্ষণে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন নওশিন। বন্ধুরা জানিয়েছেন, নওশিন মানসিক যন্ত্রণা ভুলতে ১০৯ পিস ঘুমের ওষুধ সেবন করেছিলেন।

অর্পিতা নওশিন কুমিল্লার বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরে। এক ভাই-এক বোনের মধ্যে অর্পিতা ছোট। খুলনার সরকারি করোনেশন গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এইচএসসি দিয়েছিলেন নওশিন। এরপর সাদা এপ্রোনের মায়ায় পড়ে ভর্তি হয়েছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটিতে। কিন্তু চিকিৎসক না হয়েই বাড়ি ফিরছে নওশিনের নিথর দেহ। ইতোমধ্যে খুলনার বাড়ি থেকে লাশ নিতে রওনা দিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক, অর্পিতা নওশিনের বন্ধুরা জানান, প্রথম বর্ষেই কলেজের এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরা জহিরের রোষানলে পড়েন নওশিন। এরপর প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও এনাটমি বিষয়ে অকৃতকার্য হতে হয় তাকে। এরপর গত তিন বছরে আরও ৪ বার এনাটমির পরীক্ষা দিয়েছেন নওশিন। কিন্তু প্রত্যেকবারই পরীক্ষায় ফেইল এসেছে। যদিও কী কারণে এই রোষানলে পড়তে হয়েছে তার সুস্পষ্ট কারণ জানেন না কেউ। তবে বলছেন, মনিরা শারমিন প্রথম বর্ষে থাকতে প্রকাশ্যেই অর্পিতা নওশিনকে ফেইল করার হুমকি দিয়েছিলেন।

তারা বলছেন, গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ব্যাচের তৃতীয় প্রফের ফল প্রকাশ করে। ২০২১-২২ সেশনের সবাই এখন পঞ্চম বর্ষে পড়ছেন। কিন্তু অর্পিতা নওশিনের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি এখনও প্রথম প্রফ পরীক্ষাই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

অর্পিতা নওশিনের ভাই শাহরিয়ার আরমান খুলনা থেকে মুঠোফোনে গনমাধ্যম কে বলেন, আমার বোনের এরকম কোনো মানসিকতা নাই যে সে আত্মহত্যা করবে। মূলত কলেজের মানসিক চাপ থেকে এটা করেছে। নওশিন বারবার এনাটমি বিভাগের মনিরা ম্যাডামের কথা বলত। একদম ফার্স্ট ইয়ার থেকে আমার বোনকে মানসিক নিপীড়ন করেছেন তিনি। সবাইকে পাস করে দেয়, আমার বোন প্রত্যেকটা সাবজেক্ট পাস করে, কিন্তু ওই একটা সাবজেক্টে আটকে রাখে। আমি বলেছি যে আমার বোনের সমস্যা কোথায় বলেন, তাও বলবে না। প্রেসার দিতে দিতে আমার বোনকে মেন্টালি নিপীড়ন যারা করেছে, তারাই এই মার্ডার করেছে।

শাহরিয়ার আরমান বলেন, গতকালও ওর সাথে আমি কথা বলেছি। ফর্ম ফিলআপের জন্য টাকা নিয়েছে। আমাকে বলল যে ভাই আমি তো বাড়িতে বলতে পারছি না, আব্বুর ভয়ে, এখন তুই একটু ম্যানেজ কর। আমি বললাম, ঠিক আছে, তুই তোর বন্ধুর সাথে ফর্ম ফিলআপটা কর, আমি টাকা পাঠাচ্ছি। আর আজকে এরকম খবর পাব কোনোদিন কল্পনা করিনি। ভাই হিসেবে বোন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করেন তিনি।

ট্যাগস :

হামের টীকাদান কর্মসূচিতে জনগনের অংশগ্রহণ এর মাধ্যমে শিশু মৃত্যু নিয়ন্ত্রণের আহবান জানিয়েছে : ড্যাব।

একই বিষয়ে বারবার ফেল, অভিমানে জীবন দিলেন : মেডিকেল ছাএী নওশীন।

প্রকাশের সময় : ১২:৩২:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

মেডিনিউজ ডেক্স:

এক বিষয়ে বারবার ফেইল, অভিমানে জীবন দিলেন : মেডিকেল ছাএী নওশিন।

একটি বিষয়ে পাঁচবার পরীক্ষা দিতে হয়েছে অর্পিতা নওশিনকে। কিন্তু উত্তীর্ণ হওয়ার মত নম্বর মেলেনি শিক্ষকের পক্ষ থেকে। আবারও ফরম ফিলআপের জন্য গতকাল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাড়ি থেকে টাকা নিয়েছিলেন নওশিন। কিন্তু এরই মধ্যে অভিমানে চলে গেছেন না ফেরার দেশে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হোস্টেলের নিজ কক্ষ থেকে তাকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয় বন্ধুরা। কিন্তু ততক্ষণে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন নওশিন। বন্ধুরা জানিয়েছেন, নওশিন মানসিক যন্ত্রণা ভুলতে ১০৯ পিস ঘুমের ওষুধ সেবন করেছিলেন।

অর্পিতা নওশিন কুমিল্লার বেসরকারি সেন্ট্রাল মেডিকেল কলেজের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাড়ি খুলনা সদরে। এক ভাই-এক বোনের মধ্যে অর্পিতা ছোট। খুলনার সরকারি করোনেশন গার্লস হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন কলেজ থেকে এইচএসসি দিয়েছিলেন নওশিন। এরপর সাদা এপ্রোনের মায়ায় পড়ে ভর্তি হয়েছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটিতে। কিন্তু চিকিৎসক না হয়েই বাড়ি ফিরছে নওশিনের নিথর দেহ। ইতোমধ্যে খুলনার বাড়ি থেকে লাশ নিতে রওনা দিয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক, অর্পিতা নওশিনের বন্ধুরা জানান, প্রথম বর্ষেই কলেজের এনাটমি বিভাগের প্রধান ডা. মনিরা জহিরের রোষানলে পড়েন নওশিন। এরপর প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষায় সকল বিষয়ে উত্তীর্ণ হলেও এনাটমি বিষয়ে অকৃতকার্য হতে হয় তাকে। এরপর গত তিন বছরে আরও ৪ বার এনাটমির পরীক্ষা দিয়েছেন নওশিন। কিন্তু প্রত্যেকবারই পরীক্ষায় ফেইল এসেছে। যদিও কী কারণে এই রোষানলে পড়তে হয়েছে তার সুস্পষ্ট কারণ জানেন না কেউ। তবে বলছেন, মনিরা শারমিন প্রথম বর্ষে থাকতে প্রকাশ্যেই অর্পিতা নওশিনকে ফেইল করার হুমকি দিয়েছিলেন।

তারা বলছেন, গত ৮ মার্চ চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ব্যাচের তৃতীয় প্রফের ফল প্রকাশ করে। ২০২১-২২ সেশনের সবাই এখন পঞ্চম বর্ষে পড়ছেন। কিন্তু অর্পিতা নওশিনের ক্ষেত্রে বিষয়টি সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি এখনও প্রথম প্রফ পরীক্ষাই উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

অর্পিতা নওশিনের ভাই শাহরিয়ার আরমান খুলনা থেকে মুঠোফোনে গনমাধ্যম কে বলেন, আমার বোনের এরকম কোনো মানসিকতা নাই যে সে আত্মহত্যা করবে। মূলত কলেজের মানসিক চাপ থেকে এটা করেছে। নওশিন বারবার এনাটমি বিভাগের মনিরা ম্যাডামের কথা বলত। একদম ফার্স্ট ইয়ার থেকে আমার বোনকে মানসিক নিপীড়ন করেছেন তিনি। সবাইকে পাস করে দেয়, আমার বোন প্রত্যেকটা সাবজেক্ট পাস করে, কিন্তু ওই একটা সাবজেক্টে আটকে রাখে। আমি বলেছি যে আমার বোনের সমস্যা কোথায় বলেন, তাও বলবে না। প্রেসার দিতে দিতে আমার বোনকে মেন্টালি নিপীড়ন যারা করেছে, তারাই এই মার্ডার করেছে।

শাহরিয়ার আরমান বলেন, গতকালও ওর সাথে আমি কথা বলেছি। ফর্ম ফিলআপের জন্য টাকা নিয়েছে। আমাকে বলল যে ভাই আমি তো বাড়িতে বলতে পারছি না, আব্বুর ভয়ে, এখন তুই একটু ম্যানেজ কর। আমি বললাম, ঠিক আছে, তুই তোর বন্ধুর সাথে ফর্ম ফিলআপটা কর, আমি টাকা পাঠাচ্ছি। আর আজকে এরকম খবর পাব কোনোদিন কল্পনা করিনি। ভাই হিসেবে বোন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবী করেন তিনি।