
দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭ জন শিশুর প্রাণহানির মধ্য দিয়ে এই রোগে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে ২ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল এবং বাকি ১৫ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়েছে।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল ১২ শিশুর মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছিল, যা ছিল এতদিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। নতুন এই পরিসংখ্যানের ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১১ জনে।
সংক্রমণের চিত্র ও এলাকাভিত্তিক পরিসংখ্যান
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, মৃত ১৭ শিশুর মধ্যে ১১ জনই ঢাকা বিভাগের এবং বাকি ৪ জন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ২ শিশুর অবস্থানও এই দুই বিভাগে। বর্তমানে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৫২ এবং সন্দেহভাজন হিসেবে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ২৫৯ জনে পৌঁছেছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৪ জনের দেহে হাম শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫,৪৬৭। এ ছাড়া ১,৩০২ জন নতুন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হওয়ায় মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৪১,৭৯৩ ছাড়িয়েছে।
কেন বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকি?
দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থাতেই মৃত্যুর এই হার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল হাম নয়, বরং এর সাথে অপুষ্টি এবং শারীরিক অন্যান্য জটিলতা শিশুদের অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটাচ্ছে। এর ফলে সংক্রমণ প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। তবে তারা আশা করছেন, মে মাসের শেষ বা জুনের শুরুর দিকে সংক্রমণের এই প্রকোপ কমতে শুরু করবে।
হাসপাতালের সংকটাপন্ন অবস্থা ও সরকারি পদক্ষেপ
শহরের বড় হাসপাতালগুলোতে হাম আক্রান্ত শিশুদের প্রচণ্ড চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলা ও জেলা পর্যায় থেকে জটিল রোগীদের রেফার করায় রাজধানীর হাসপাতালগুলো হিমশিম খাচ্ছে। অনেক অভিভাবকই পর্যাপ্ত আইসিইউ (ICU) সুবিধা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ৮৬ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং সংক্রমণের তীব্রতা কমে আসবে।
মেডি নিউজ ডেস্ক: 



















