
কূটনৈতিক সমাধানের পথেই যুক্তরাষ্ট্রের ‘সামরিক দুঃসাহস’, মাথা নত করবে না ইরান
নিজস্ব প্রতিবেদক | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে যখন কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা চলছে, ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া সামরিক দুঃসাহস’ দেখানোর গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ইরান। হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হুঁশিয়ারি দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
শুক্রবার (৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে যে যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়, তখনই তারা সামরিক পথ বেছে নেয়। তবে ওয়াশিংটনকে মনে রাখতে হবে, ইরান কখনোই কোনো চাপের মুখে মাথা নত করবে না।”
সমুদ্রে পাল্টাপাল্টি হামলা ও জব্দ ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্য এমন সময়ে এলো যখন ওমান উপসাগরে ইরানি নৌযানে মার্কিন হামলার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলমান নৌ-অবরোধ অমান্য করে ইরানি বন্দরের দিকে অগ্রসর হওয়ায় তারা দুটি ইরানি তেলের ট্যাংকারকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ পর্যন্ত তারা ৭০টিরও বেশি জাহাজকে ইরানি বন্দরে যাতায়াতে বাধা দিয়েছে।
এর পাল্টা জবাবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনী ওমান উপসাগরে একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে বার্বাডোজে নিবন্ধিত একটি ট্যাংকার জব্দ করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশটির তেল রপ্তানি ও জাতীয় স্বার্থে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করায় জাহাজটি আটক করা হয়েছে।
আহত ১০ নাবিক, ড্রোনের লড়াই হরমুজগান প্রদেশের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, মার্কিন বাহিনীর হামলায় একটি ইরানি কার্গো জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে অন্তত ১০ জন নাবিক আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে মার্কিন বাহিনী ইরানের বেশ কিছু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট নৌযান ধ্বংস করেছে। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, “দ্রুত কোনো চুক্তি না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
মেডি নিউজ ডেস্ক: 



















