ঢাকা ০৩:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিডনি ব্যথা শরীরের ঠিক কোথায় হয়? জেনে নিন সঠিক তথ্য

কিডনি ব্যথা শরীরের ঠিক কোথায় হয়? জেনে নিন সঠিক তথ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক | ১০ মে, ২০২৬

অনেকেই পিঠের নিচের দিকে বা কোমরে ব্যথা হলে আতঙ্কিত হয়ে ভাবেন কিডনির সমস্যা হয়েছে। আবার অনেকে কিডনির আসল ব্যথাকে সাধারণ মাজার ব্যথা ভেবে অবহেলা করেন। চিকিৎসকদের মতে, কিডনির ব্যথা চেনার নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ ও স্থান রয়েছে যা জানা থাকলে অকাল মৃত্যু বা বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

ব্যথা আসলে কোথায় হয়? কিডনি মানবদেহের মেরুদণ্ডের দুই পাশে পাঁজরের ঠিক নিচে অবস্থিত। তাই কিডনিজনিত ব্যথা সাধারণত অনুভব হয়:

  • পিঠের উপরিভাগে: মেরুদণ্ডের ঠিক ডানে বা বামে পাঁজরের নিচের অংশে।

  • শরীরের দুই পাশে (Flanks): পাঁজরের নিচে দুই পাশের খালি জায়গায় গভীর এক ধরণের ব্যথা অনুভূত হয়।

  • ব্যথা ছড়িয়ে পড়া: কিডনির পাথর বা ইনফেকশন হলে এই ব্যথা অনেক সময় পিঠ থেকে তলপেট কিংবা কুঁচকির (Groin area) দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

কিডনি ব্যথার বিশেষ বৈশিষ্ট্য: সাধারণ পিঠ ব্যথার সাথে কিডনি ব্যথার মূল পার্থক্য হলো এর তীব্রতা। কিডনির ব্যথা সাধারণত শরীরের অনেক ভেতর থেকে আসে এবং এটি নড়াচড়া বা বিশ্রাম নিলেও খুব একটা কমে না। অনেক সময় এই ব্যথা ঢেউয়ের মতো আসে—কখনো খুব তীব্র, আবার কখনো কিছুটা কম।

সাথে আর কী কী লক্ষণ থাকে? শুধু ব্যথা নয়, কিডনির সমস্যা হলে আরও কিছু উপসর্গ দেখা দেয়: ১. প্রস্রাবের রঙ চা বা কফির মতো গাঢ় হওয়া কিংবা রক্ত দেখা দেওয়া। ২. প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া। ৩. কাঁপুন দিয়ে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর আসা। ৪. সারাক্ষণ বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া। ৫. শরীর, বিশেষ করে চোখের নিচে বা পা ফুলে যাওয়া।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: যদি পাঁজরের নিচে তীব্র ব্যথার সাথে জ্বর বা প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘনঘন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকলে কিডনি ভালো থাকে।

ট্যাগস :

হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম চিকিৎসার প্রটোকল ও গাইডলাইন উদ্বোধন

কিডনি ব্যথা শরীরের ঠিক কোথায় হয়? জেনে নিন সঠিক তথ্য

প্রকাশের সময় : ১২:০৮:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

কিডনি ব্যথা শরীরের ঠিক কোথায় হয়? জেনে নিন সঠিক তথ্য

স্বাস্থ্য ডেস্ক | ১০ মে, ২০২৬

অনেকেই পিঠের নিচের দিকে বা কোমরে ব্যথা হলে আতঙ্কিত হয়ে ভাবেন কিডনির সমস্যা হয়েছে। আবার অনেকে কিডনির আসল ব্যথাকে সাধারণ মাজার ব্যথা ভেবে অবহেলা করেন। চিকিৎসকদের মতে, কিডনির ব্যথা চেনার নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ ও স্থান রয়েছে যা জানা থাকলে অকাল মৃত্যু বা বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

ব্যথা আসলে কোথায় হয়? কিডনি মানবদেহের মেরুদণ্ডের দুই পাশে পাঁজরের ঠিক নিচে অবস্থিত। তাই কিডনিজনিত ব্যথা সাধারণত অনুভব হয়:

  • পিঠের উপরিভাগে: মেরুদণ্ডের ঠিক ডানে বা বামে পাঁজরের নিচের অংশে।

  • শরীরের দুই পাশে (Flanks): পাঁজরের নিচে দুই পাশের খালি জায়গায় গভীর এক ধরণের ব্যথা অনুভূত হয়।

  • ব্যথা ছড়িয়ে পড়া: কিডনির পাথর বা ইনফেকশন হলে এই ব্যথা অনেক সময় পিঠ থেকে তলপেট কিংবা কুঁচকির (Groin area) দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

কিডনি ব্যথার বিশেষ বৈশিষ্ট্য: সাধারণ পিঠ ব্যথার সাথে কিডনি ব্যথার মূল পার্থক্য হলো এর তীব্রতা। কিডনির ব্যথা সাধারণত শরীরের অনেক ভেতর থেকে আসে এবং এটি নড়াচড়া বা বিশ্রাম নিলেও খুব একটা কমে না। অনেক সময় এই ব্যথা ঢেউয়ের মতো আসে—কখনো খুব তীব্র, আবার কখনো কিছুটা কম।

সাথে আর কী কী লক্ষণ থাকে? শুধু ব্যথা নয়, কিডনির সমস্যা হলে আরও কিছু উপসর্গ দেখা দেয়: ১. প্রস্রাবের রঙ চা বা কফির মতো গাঢ় হওয়া কিংবা রক্ত দেখা দেওয়া। ২. প্রস্রাবের সময় তীব্র জ্বালাপোড়া। ৩. কাঁপুন দিয়ে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর আসা। ৪. সারাক্ষণ বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া। ৫. শরীর, বিশেষ করে চোখের নিচে বা পা ফুলে যাওয়া।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: যদি পাঁজরের নিচে তীব্র ব্যথার সাথে জ্বর বা প্রস্রাবের সমস্যা দেখা দেয়, তবে দেরি না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ঘনঘন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকলে কিডনি ভালো থাকে।