
তীব্র তাপদাহে বাড়ছে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি: জীবন বাঁচাতে সচেতন হওয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সারাদেশে বইছে তীব্র তাপপ্রবাহ। অসহনীয় এই গরমে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। এই প্রতিকূল আবহাওয়াতে সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে ‘হিটস্ট্রোক’। চিকিৎসকদের মতে, শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়লে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হতে পারে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ তাপমাত্রার কারণে শরীরে নিচের উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে:
-
শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যাওয়া।
-
প্রবল মাথাব্যথা, মাথা ঝিমঝিম করা এবং বমি বমি ভাব।
-
তীব্র গরমেও ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে যাওয়া।
-
দ্রুত হৃদস্পন্দন এবং শ্বাসকষ্ট।
-
অসংলগ্ন কথা বলা, বিভ্রান্তি বা হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলা।
কাউকে হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হতে দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
১. আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত রোদের আড়াল থেকে সরিয়ে শীতল বা ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে যেতে হবে।
২. পরনের ভারী কাপড় খুলে দিয়ে শরীর যতটা সম্ভব হালকা করে দিতে হবে।
৩. ভেজা কাপড় দিয়ে বারবার পুরো শরীর মুছে দিতে হবে অথবা সম্ভব হলে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করাতে হবে।
৪. দ্রুত শরীরের তাপমাত্রা কমাতে বগল, ঘাড় এবং কুঁচকিতে বরফ বা আইসপ্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫. রোগী সচেতন থাকলে তাকে প্রচুর পরিমাণে খাবার স্যালাইন বা পানি পান করাতে হবে। তবে অচেতন অবস্থায় কাউকে কিছু পান করানো যাবে না।
৬. অবস্থার উন্নতি না হলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।
তীব্র গরম চলাকালীন অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বাইরে বের হলে অবশ্যই ছাতা, টুপি এবং ঢিলেঢালা সুতির পোশাক ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া শরীরের পানি স্বল্পতা রোধে বারবার পানি, ডাব বা তরল খাবার খাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সুস্থ থাকতে সাবধানতা ও সচেতনতাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
মেডি নিউজ ডেস্ক: 























