
লালমনিরহাটে সিজারিয়ান অপারেশনের পর আদরী বেগম (৩২) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগে ‘নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোম’ সিলগালা করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে প্রসূতির মৃত্যুর খবর পেয়ে লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম তাৎক্ষণিকভাবে ক্লিনিকটিতে অভিযান চালান। এ সময় মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি এবং ফোন বা অন্য কোনো মাধ্যমেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে সিভিল সার্জনের নির্দেশে সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নওশাদ আলম এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল ইসলামের উপস্থিতিতে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়।
নিহত আদরী বেগম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের মহিষাসুর গ্রামের বাসিন্দা এবং তিন সন্তানের জননী। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তিনি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।
স্বজনদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার প্রসবব্যথা শুরু হলে প্রথমে তাকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ভোর ৪টার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর বা অন্য কোথাও নেওয়ার পরামর্শ দেয়। পরে ‘বিজলী’ নামের এক নারীর পরামর্শে তাকে শহরের ‘নিউ অতিথি ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে’ ভর্তি করা হয়।
পরিবারের দাবি, ৩৫ হাজার টাকা চুক্তিতে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তার সিজারিয়ান অপারেশন করায়। অস্ত্রোপচারের কয়েক ঘণ্টা পর রোগীর রক্তের প্রয়োজন দেখা দিলে বিষয়টি জানানো হয়, কিন্তু ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ সময়মতো কোনো সহযোগিতা করেনি। চিকিৎসায় অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও সঠিক সময়ে সুচিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই আদরী বেগমের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এমনকি রোগীর মৃত্যুর পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাকে রংপুরে নিয়ে যাওয়ার নাটক সাজানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন স্বজনরা।
মেডি নিউজ ডেস্ক: 
















