ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, দুই নার্স অব্যাহতি

  • মেডি নিউজ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : ০৪:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ২৩ বার পঠিত

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখতে পেয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান, জনবল সংকট, এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিনের মজুত সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি, হাসপাতালের সামনের কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রেও নজর বুলান তিনি। পরিদর্শন শেষে দায়িত্বে অবহেলা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে দুই নার্সকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

হাসপাতালের অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের অব্যবস্থাপনার কথাগুলো স্বীকার করতে হবে। বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি প্রতিটি খাতেই নজিরবিহীন লুটপাট চালানো হয়েছে। জনগণের করের টাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে তছরুপ করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে; অতীতে কেউ এসবের খোঁজ নেয়নি।”

এ সময় স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, “প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিকে ১৯ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। এরপর থেকে এই হাসপাতালে আর কোনো উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ বা উন্নয়ন হয়নি। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন চিকিৎসকের পদায়নসহ একটি করে হেলথ সেন্টার গড়ে তোলা হবে।”

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা এবং কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মুন্সীর নেতৃত্বে দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, দুই নার্স অব্যাহতি

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শন, দুই নার্স অব্যাহতি

প্রকাশের সময় : ০৪:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি। এ সময় হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রমে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা দেখতে পেয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান, জনবল সংকট, এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিনের মজুত সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি, হাসপাতালের সামনের কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বৈধতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রেও নজর বুলান তিনি। পরিদর্শন শেষে দায়িত্বে অবহেলা এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে দুই নার্সকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং কয়েকজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

হাসপাতালের অনিয়ম দূর করতে সংশ্লিষ্টদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের অব্যবস্থাপনার কথাগুলো স্বীকার করতে হবে। বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সরকারি প্রতিটি খাতেই নজিরবিহীন লুটপাট চালানো হয়েছে। জনগণের করের টাকা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বাজেট থেকে তছরুপ করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য খাতটি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত জনবল, ওষুধ ও ভ্যাকসিনের সংকট রয়েছে; অতীতে কেউ এসবের খোঁজ নেয়নি।”

এ সময় স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, “প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতা গ্রহণের পর এটিকে ১৯ শয্যার হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেটিকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করেন। এরপর থেকে এই হাসপাতালে আর কোনো উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ বা উন্নয়ন হয়নি। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন চিকিৎসকের পদায়নসহ একটি করে হেলথ সেন্টার গড়ে তোলা হবে।”

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কিশোর কুমার দাস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা এবং কালকিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন মুন্সীর নেতৃত্বে দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।