ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২১ কোটি টাকার অবকাঠামো প্রস্তুত, তবুও চিকিৎসকহীন ঝিনাইদহের ৪ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

  • মেডি নিউজ ডেস্ক:
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৪৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ২৭ বার পঠিত

দাঁড়িয়ে আছে সুসজ্জিত তিনতলা ভবন। প্রতিটি কক্ষে সাজানো উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রস্তুত রয়েছে শয্যা (বেড) এবং চিকিৎসক-কর্মীদের থাকার ডরমিটরি। এমনকি বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের ব্যবস্থাও রয়েছে। অথচ নেই শুধু চিকিৎসক!

উদ্বোধনের দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও চিকিৎসক সংকটের কারণে ঝিনাইদহ জেলার চারটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ, প্রত্যন্ত গ্রামের গর্ভবতী নারীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কাছের এসব কেন্দ্রে চিকিৎসা না পেয়ে তাদের চরম দুর্ভোগ ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটতে হচ্ছে দূরদূরান্তের হাসপাতালে।

জানা গেছে, ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে এই হাসপাতালগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে উদ্বোধনের পর স্থানীয়দের মনে আশা জেগেছিল যে, গ্রামের নারীরা এখন থেকে নিজ এলাকাতেই নিরাপদ মাতৃত্বসেবা পাবেন এবং জটিল পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। কিন্তু আট বছরেও সেই আশার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। ভবন ও অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও জনবলের অভাবে সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর বড় একটি অংশ অব্যবহৃত পড়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার শৈলকুপা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম দুধসরে আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হয় ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। পরিকল্পনা ছিল এখান থেকেই গর্ভবতী নারীদের প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। কিন্তু চিকিৎসক সংকটে প্রতিষ্ঠানটি আজও পূর্ণাঙ্গ সেবাকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারেনি।

একই বেহাল দশা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা, কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকা এবং শৈলকুপার কাঁচেরকোল গ্রামে নির্মিত অপর তিনটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের। আধুনিক ভবন ও যন্ত্রপাতি থাকলেও জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না কোথাও।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) এমডি-এমএস রেসিডেন্সি কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন

২১ কোটি টাকার অবকাঠামো প্রস্তুত, তবুও চিকিৎসকহীন ঝিনাইদহের ৪ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র

প্রকাশের সময় : ০৩:৪৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

দাঁড়িয়ে আছে সুসজ্জিত তিনতলা ভবন। প্রতিটি কক্ষে সাজানো উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম, প্রস্তুত রয়েছে শয্যা (বেড) এবং চিকিৎসক-কর্মীদের থাকার ডরমিটরি। এমনকি বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিকল্প হিসেবে জেনারেটরের ব্যবস্থাও রয়েছে। অথচ নেই শুধু চিকিৎসক!

উদ্বোধনের দীর্ঘ আট বছর পেরিয়ে গেলেও চিকিৎসক সংকটের কারণে ঝিনাইদহ জেলার চারটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলস্বরূপ, প্রত্যন্ত গ্রামের গর্ভবতী নারীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কাছের এসব কেন্দ্রে চিকিৎসা না পেয়ে তাদের চরম দুর্ভোগ ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটতে হচ্ছে দূরদূরান্তের হাসপাতালে।

জানা গেছে, ঝিনাইদহের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে এই হাসপাতালগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে উদ্বোধনের পর স্থানীয়দের মনে আশা জেগেছিল যে, গ্রামের নারীরা এখন থেকে নিজ এলাকাতেই নিরাপদ মাতৃত্বসেবা পাবেন এবং জটিল পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। কিন্তু আট বছরেও সেই আশার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। ভবন ও অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও জনবলের অভাবে সরকারি এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর বড় একটি অংশ অব্যবহৃত পড়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার শৈলকুপা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম দুধসরে আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হয় ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। পরিকল্পনা ছিল এখান থেকেই গর্ভবতী নারীদের প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে। কিন্তু চিকিৎসক সংকটে প্রতিষ্ঠানটি আজও পূর্ণাঙ্গ সেবাকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারেনি।

একই বেহাল দশা ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা, কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকা এবং শৈলকুপার কাঁচেরকোল গ্রামে নির্মিত অপর তিনটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের। আধুনিক ভবন ও যন্ত্রপাতি থাকলেও জনবল সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না কোথাও।