ঢাকা ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মমেক ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক: সংবাদ সম্মেলনে নেতাদের ব্যাখ্যা

মমেক ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক: সংবাদ সম্মেলনে নেতাদের ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ | ০৫ মে, ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত ৫১ সদস্যের কমিটিতে ছাত্রলীগের ১১ জন নেতা-কর্মীকে পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে আজ মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে কলেজ ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে মমেক ছাত্রদল।

গত ২ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তানভীর আব্দুল্লাহকে আহ্বায়ক এবং মেহেদী হাসানকে সদস্যসচিব করে মমেক শাখার ৫১ সদস্যের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়। কমিটি ঘোষণার পরই অভিযোগ ওঠে যে, এতে ছাত্রলীগের ২০২৩ সালের কমিটির পদধারী অন্তত ১১ জন সদস্য রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সদস্যসচিব মেহেদী হাসান। বিতর্কের মুখে থাকা ১১ জন সদস্যের বিষয়ে ছাত্রদল নেতারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তুলে ধরেন:

  • বাধ্যতামূলক পদায়ন: নেতাদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে মমেক হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীদের মাত্র ১৫-২০ শতাংশ আবাসন সুবিধা পেত। বাকিদের হলে থাকতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে ছাত্রলীগের কমিটিতে নাম লেখাতে হতো।

  • জুনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থী: যাদের নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, তারা সবাই ‘ম-৫৯’ ব্যাচের শিক্ষার্থী। ২০২৩ সালে তারা প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষার্থী হিসেবে সবচেয়ে জুনিয়র ছিল। তারা ছাত্রলীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিল না, বরং হলে থাকার প্রয়োজনে তাদের নাম কমিটিতে ঢোকানো হয়েছিল।

  • আন্দোলনে ভূমিকা: ছাত্রদল দাবি করেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্রদলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে রাজপথে ছিল। যাচাই-বাছাই করেই তাদের নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

  • ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই ‘ন্যারেটিভ’ ছড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, এই কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মমেক ছাত্রদলের ভেতরে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত এপ্রিলে আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নূর এ জাওয়াত রুতাপের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, যার জেরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল। আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ এবং বিতর্ক কাটিয়ে পদে ফেরা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নূর এ জাওয়াত রুতাপ।

মমেক ছাত্রদলের এই কমিটি নিয়ে বিতর্ক মূলত দুটি ধারায় বিভক্ত। একদল মনে করছেন, ‘হাইব্রিড’ বা সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান নেতৃত্বের দাবি, যারা আন্দোলনে সক্রিয় ছিল তাদেরই মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এখন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ ও সচ্ছলতায় গুরুত্বারোপ ডা. জুবাইদা রহমানের

মমেক ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক: সংবাদ সম্মেলনে নেতাদের ব্যাখ্যা

প্রকাশের সময় : ০৯:৫১:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

মমেক ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে বিতর্ক: সংবাদ সম্মেলনে নেতাদের ব্যাখ্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ | ০৫ মে, ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) শাখা ছাত্রদলের নবগঠিত ৫১ সদস্যের কমিটিতে ছাত্রলীগের ১১ জন নেতা-কর্মীকে পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে আজ মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে কলেজ ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে মমেক ছাত্রদল।

গত ২ মে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল তানভীর আব্দুল্লাহকে আহ্বায়ক এবং মেহেদী হাসানকে সদস্যসচিব করে মমেক শাখার ৫১ সদস্যের আংশিক পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয়। কমিটি ঘোষণার পরই অভিযোগ ওঠে যে, এতে ছাত্রলীগের ২০২৩ সালের কমিটির পদধারী অন্তত ১১ জন সদস্য রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

আজকের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সদস্যসচিব মেহেদী হাসান। বিতর্কের মুখে থাকা ১১ জন সদস্যের বিষয়ে ছাত্রদল নেতারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি তুলে ধরেন:

  • বাধ্যতামূলক পদায়ন: নেতাদের দাবি, বিগত সরকারের আমলে মমেক হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীদের মাত্র ১৫-২০ শতাংশ আবাসন সুবিধা পেত। বাকিদের হলে থাকতে হলে বাধ্যতামূলকভাবে ছাত্রলীগের কমিটিতে নাম লেখাতে হতো।

  • জুনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থী: যাদের নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে, তারা সবাই ‘ম-৫৯’ ব্যাচের শিক্ষার্থী। ২০২৩ সালে তারা প্রথম প্রফেশনাল পরীক্ষার্থী হিসেবে সবচেয়ে জুনিয়র ছিল। তারা ছাত্রলীগের কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিল না, বরং হলে থাকার প্রয়োজনে তাদের নাম কমিটিতে ঢোকানো হয়েছিল।

  • আন্দোলনে ভূমিকা: ছাত্রদল দাবি করেছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্রদলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে রাজপথে ছিল। যাচাই-বাছাই করেই তাদের নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে।

  • ষড়যন্ত্রের অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই ‘ন্যারেটিভ’ ছড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, এই কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মমেক ছাত্রদলের ভেতরে আগে থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গত এপ্রিলে আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নূর এ জাওয়াত রুতাপের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল, যার জেরে কলেজ কর্তৃপক্ষ ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল। আজকের সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ এবং বিতর্ক কাটিয়ে পদে ফেরা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নূর এ জাওয়াত রুতাপ।

মমেক ছাত্রদলের এই কমিটি নিয়ে বিতর্ক মূলত দুটি ধারায় বিভক্ত। একদল মনে করছেন, ‘হাইব্রিড’ বা সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীদের অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত করা হয়েছে। অন্যদিকে বর্তমান নেতৃত্বের দাবি, যারা আন্দোলনে সক্রিয় ছিল তাদেরই মূল্যায়ন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এখন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।